মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ ও ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দরপতন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত।

ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ডলারের বিনিময় হার বাড়ায় গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। খবর রয়টার্স।

গতকাল প্রতিবেদনটি তৈরি করা পর্যন্ত স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণ বেচাকেনা হয়েছে ৪ হাজার ৭৯২ ডলার ৮৯ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৭ শতাংশ কম। এছাড়া এদিন বেচাকেনার শুরুতে মূল্যবান ধাতুটির দাম কমে ১৩ এপ্রিলের পর সর্বনিম্নে নেমে গিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে গতকাল জুনে সরবরাহের চুক্তিতে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৮১২ ডলার ৬০ সেন্টে নেমে আসে।

বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় জ্বালানি তেলের দাম আরো বেড়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত মূল্যস্ফীতি বাড়লে স্বর্ণের দাম বাড়ে। কিন্তু বর্তমান ভূরাজনৈতিক সংকটে বিনিয়োগকারীরা আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চেয়ে ডলারকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।

আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হ্যান তান এ বিষয়ে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য সংকটে স্বর্ণের তুলনায় ডলারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেশি দেখা যাচ্ছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত সংঘাতের স্থায়ী নিরসন ঘটছে, ততক্ষণ স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলারের নিচেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্র গত রোববার একটি ইরানি কার্গো জাহাজ জব্দ করার দাবি করে। এর জবাবে ইরান পাল্টা প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা দিলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন করে তৈরি হয়। এ উত্তেজনায় পারস্য উপসাগরে নৌ-চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় জ্বালানি তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। এছাড়া জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদহার আরো বাড়াতে পারে, এমন প্রত্যাশাও স্বর্ণের দামকে নিম্নমুখী করেছে।

পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী দেশগুলোর জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। এতে চাহিদা কমার কারণে দামও কমে এসেছে।

তবে আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান জেফরিজের ইট্রেডডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবোরাস বলেন, ‘স্বর্ণের দাম বাড়ার সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ কেনা এবং ডি-ডলারাইজেশন বা ডলারের বিকল্প খোঁজার প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের বাজারকে সহায়তা দিতে পারে।’

স্পট মার্কেটে গতকাল রুপার দাম কমেছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য নেমে এসেছে ৭৯ ডলার ৩৯ সেন্টে। এ সময় প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৩ ডলার ৭৫ সেন্টে। গতকাল প্রতি আউন্স প্যালাডিয়াম বেচাকেনা হয়েছে ১ হাজার ৫৪২ ডলার ২৫ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ১ শতাংশ কম।

আরও